মুম্বাই, ১৯ আগস্ট ২০২৬ — জিও প্ল্যাটফর্মস এখন সহজ এক টেলিকম সংস্থা নয়; এটি ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোর একটি বিস্তৃত প্রযুক্তি স্ট্যাক নির্মাণ করছে—৪জি/৫জি কোর, ব্রডব্যান্ড, ডিভাইস, অপারেটিং সিস্টেম, ক্লাউড, আইওটি ও এআই সহ। সংস্থাটি ১৯ জুন ২০২৬ এ SEBI-তে জমা করা DRHP-তে নিজেদের অভিযাত্রার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে, যেখানে দেখা যায় কতটা প্রযুক্তি দেশেই নির্মিত হচ্ছে।
নেটওয়ার্ক ও সিপেহারা প্রযুক্তি
জিও স্বাধীন (standalone) ৫জি নেটওয়ার্ক চালু করে এবং ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ২৬৮.৫ মিলিয়ন ৫জি সাবস্ক্রাইবার রিপোর্ট করেছে। স্ট্যান্ডেলোন আর্কিটেকচার নেটওয়ার্ক স্লাইসিং, প্রাইভেট ৫জি ও মেশিন-টু-মেশিন যোগাযোগকে সম্ভব করে। ডিআরএইচপিতে বলা হয়েছে জিওর ইঞ্জিনিয়ারিং টিমে ডিজিটাল পণ্য ও প্রযুক্তি বিকাশে কর্মরত ছিল প্রায় ১১,৩০৩ জন, এবং ৬,৮১৭টি পেটেন্ট আবেদনের মধ্যে ১,০০৯টি মঞ্জুর হয়েছে।
বাড়িতে নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম
জিওর হোম ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা ২৭.১ মিলিয়ন; FiscAL ২০২৬-এ মোট ফিক্সড-ব্রডব্যান্ড নেট অ্যাডিশনের ৬৭.৫৬ শতাংশ জিওই এনেছে। ফাইবার ও ফিক্সড ওয়্যারলেস (JioAirFiber, UBR প্রযুক্তি) মিলিয়ে দ্রুত সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। JioTV+, JioSaavn, ক্লাউড স্টোরেজ, ক্লাউড গেমিং, স্মার্ট হোম ডিভাইস ও AI-সহ বিভিন্ন সেবা একই সংযোগের ওপর দেখা যাচ্ছে। JioCloud PC-র মতো পরিষেবা টিভিকে কম্পিউটারে পরিণত করতে পারবে। ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করতে JioSpaceFiber নামের স্যাটেলাইট সংযোগের উদ্যোগও পরিকল্পনায় আছে।
সুলভ প্রবেশপথ: ₹৭৯৯-এর ফোন
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে বড় বাধা এখন প্রায়ই ডিভাইসের অর্থনীতি। জিওভারাশে এই চ্যালেঞ্জের জন্য আনছে JioBharat—₹৭৯৯ মূল্যের একটি ফিচার ফোন, যেখানে লাইভ টিভি, JioPay UPI, ক্যামেরা, HD ভয়েস ও ২৩টি ভাষা সহায়তা রয়েছে। মূল ভাবনা: সংযোগের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ডিভাইস দিয়েই মানুষকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করা।
উদ্যোগ, কর্পোরেট ও শহর
জিওর প্রযুক্তি এখন কারখানা, অফিস, ইউটিলিটি ও শহরের ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করছে। প্রাইভেট ৫জি (5G-in-a-Box), JioThings IoT সমাধান, ক্লাউড সেবা, ম্যানেজড নেটওয়ার্ক ও সাইবারসিকিউরিটি—এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ উত্পাদন, অপারেশন ও ডেটার সঙ্গে যুক্ত করছে। অনেক রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, বিমানবন্দর ও বড় ব্যাংক জিওর পরিষেবা ব্যবহার করছে।
এআই: বুদ্ধিমত্তার স্তর
JioBrain নামে জিওর ইন-হাউস এআই প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক অটোমেশন, প্রেডিকটিভ অ্যানালিটিক্স ও অ্যানোমালি ডিটেকশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেটওয়ার্ককে স্বয়ংক্রিয় করতে, কনজেশন পূর্বাভাস দিতে এবং সমস্যা নিজেই ঠিক করতে সাহায্য করবে। কনজিউমারদের জন্য জিও—গুগল AI Pro-এর মত পার্টনারশিপও চালু করেছে।
কেবল নেটওয়ার্ক নয়, প্রযুক্তি গড়ছে জিও—ডিভাইস, ক্লাউড ও এআই মিলিয়ে নতুন ডিজিটাল ইকোসিস্টেম